আজ আমি এমন কিছু কথা শোনাবো যা আপনাদের পছন্দ হবে না কিন্তু যার সত্যতা আপনারা ভবিষ্যতে চোখের সামনে দেখতে পাবেন_
"টিএসসিতে নীপিড়নকারী যুবকরা যদি ধরাও পরে শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হবে না"
না এখানে রাজনীতির কিছু নেই, তারা আইনের ফাক গলেই বের হয়ে যাবে, আপনারা জানেন কিনা জানিনা বাংলাদেশে এখনো সেই ১৮৭২ সালে ব্রিটিশদের করে যাওয়া সাক্ষ্য আইনই চলে, ব্রিটিশ শাসন অবসানের এত বছর পরেও, এত জ্ঞানী-গুনী বুদ্ধিজীবি, টকমারানী (?!?!) থাকার পরেও কারো মুরোদ হয়নি এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার। আমি যে কয়টা ফুটেজ দেখেছি তা দেখে আইনজীবি হিসেবে আমার মনে হয়েছে শুধু এ সবের উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের শাস্তি দেয়া যাবেনা।
না আমি এই সব অভিযুক্তের পক্ষ নিচ্ছি না বা এদের সমর্থনও করছি না কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতবানী করছি মাত্র। বাংলাদেশের প্রচলিত সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর নিজের, অর্থাত টিএসসিতে নীপিড়িত নারীদের বিচার তাদের নিজেদেরই চাইতে হবে, পুলিশ ইচ্ছা করলে নিজেরা এজাহার দায়ের করে মামলা শুরু করতে পারে তবে ভিকটিমের সাক্ষ্য প্রমান বাদে সেই মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি হবার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে আমার জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব হবার সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান।
ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম বিচারের জন্য কোন মেয়ে হয়তো কোর্টে যাবে, গেলে কি হবে আপনারা হয়তো জানেন না কিন্তু একজন আইনজীবি হিসেবে আমি জানি, বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এই সব কেসে মেয়েরা আসামী পক্ষের উকিলদের হাতে যে পরিমান মানসিক নির্যাতন এবং নোংরা প্রশ্নের শিকার হয় তার চেয়ে প্রকাশ্যে গনধর্ষন সম্ভবতঃ কম কষ্টকর।
তো এখন কি হবে ? ছেলেগুলি হয়তো ধরা পরবে, কিছুদিন তারপর জেলেও থাকতে পারে কিন্তু তার পর একদিন ঠিকই জামিন পেয়ে যাবে, কোন মেয়ে যদি সাহস করে সামনে এগিয়ে মামলা করে তখন সেই মেয়েকে হুমকি ধমকি দেবে, মেয়েটা সেই সব হুমকি-ধমকিতে বা কোর্টে আসা যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বা উকিলদের নোংরা প্রশ্ন থেকে বাচতে আদালতে যাওয়া বন্ধ করে দিবে, এই হবে আরকি।
সত্যি কথা বলতে যে পর্যন্ত সাক্ষ্য আইন যুগোপযোগী করা না হবে, এমনটিই চলতে থাকবে, তো এখন কথা হচ্ছে সরকার তা করছেনা কেন? সরকার যে কারনে করছেনা বা করতে পারছেনা সেই কারনটা একই সাথে দুঃখজনক এবং হাস্যকর, আইন যুগোপযোগী করার মত মেধাবী লোক সরকারের নেই, সরকার যদি আই আইন যুগোপযোগী করার জন্য কোন প্রকল্পও হাতেও নেয় তাও ব্যার্থ হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে কারন তখন মেধার চেয়ে দলীয় পরিচয় বড় হয়ে উঠবে, তা সে যে সরকারই হোক না কেন।
সরকার যদি আসলেই সাক্ষ্য আইনকে যুগোপযোগী করতে চান তাহলে সরকারকে রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্দ্ধে উঠে দুই প্রজন্মের উকিলদের সাহায্য নিতে হবে, প্রথমতঃ নিতে হবে সেরা সিনিওর ট্রায়াল আইনজীবিদের (যেমন মোশাররফ হোসেন কাজল ভাই) যারা ট্রায়াল আসলেই ভাল বুঝেন এবং দ্বিতীয়তঃ আমার প্রজন্মের আইনজীবিদের, আইসিটি সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে, কেবল মাত্র তাহলেই সরকার সাক্ষ্য আইনকে যুগোপযোগী করে তুলতে পারবেন।
লেখক:
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন