মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

লীগাল নোটিশ লেখার কায়দা কানুন (০০০৮)


লেখাটা মূলত নবীন আইনজীবি ভাই-বোনদের জন্য, লক্ষ্য করেছি অনেক সিনিয়র আইনজীবি জুনিয়রদের ঠিকমত লীগাল নোটিশ লেখা শেখান না বা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাপার, অনেক ক্ষেত্রে সিনিয়র নিজেও ঠিকমত লেখার কায়দা কানুন জানেন না। আশা করি আমার এই লেখা নবীন আইনজীবি ভাই-বোনদের কিছুটা হলেও কাজে আসবে।

১) মক্কেল যতই অনুরোধ করুক না কেন, লীগাল নোটিশে কাউকে কোনরূপ গালাগালি করবেন না, লীগাল নোটিশে অপরপক্ষকে ‘হার্মাদ, চরিত্রহীন...’ জাতীয় বিচিত্র বিশেষণে প্রাচীনকালের আইনজীবিরা অনেক সময় ভূষিত করতেন, গালাগালির এই ধারাটা ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকুক, এটাকে আবার ফিরিয়ে আনার কোনই কারণ নেই।

২) মক্কেল লীগাল নোটিশে অনেক কিছুই বলতে চাবে, আইনজীবি হিসেবে এটা আপনার নিজ দ্বায়িত্ব যে মক্কেলের চাহিদার মধ্যে যতটুকু আইনে গ্রাহ্য হবে বা যা নিয়ে কন্টেস্ট করা যাবে শুধুমাত্র সেটুকু লীগাল নোটিশে তুলে ধরা। লীগাল নোটিশ পুরোপুরি মক্কেলের চাহিদা মত লিখলে প্রায় সময়ই অপর পক্ষের আইনজীবি এবং কোর্টের কাছে ‘ব্যাক্কল’ হিসেবে চিহ্নিত হবার ভাল সম্ভাবনা থাকে (কারো মনে আছে কিনা জানিনা ক্রিকেটার রুবেলের জামিনের পর চিত্রনায়িকা হ্যাপীর চাহিদা অনুযায়ী জনৈক ডক্টরেট ডিগ্রীধারী আইনজীবি জামিনদাতা বিচারককে রুবেলকে কেন জামিন দেয়া হয়েছে এই মর্মে লীগাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন)

৩) লীগাল নোটিশের বক্তব্য হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত এবং লেখা উচিত ছোট ছোট আলাদা প্যারায়। গদ্য সাহিত্যর আদলে এক গাদা কথা এক জায়গায় লিখলে সেটা পড়া এবং পড়ে বোঝা সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই (যার মধ্যে ভবিষ্যতে কোর্টের বিচারকগনও থাকতে পারেন) নিদারুন শ্রম ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

৪) লীগাল নোটিশের ভাষা হওয়া উচিত আইনজীবির দক্ষতা অনুযায়ী, ‘সেইরাম’ দক্ষতা না থাকলে জটিল বিষয়ে ইংরেজীতে লীগাল নোটিশ পাঠানো একান্তই অনুচিত, অবশ্য আমি এমন আইনজীবিও দেখেছি যারা বাংলাতেও ঠিকমত লীগাল নোটিশ লিখতে পারেন না।

৫) লীগাল নোটিশে ফাপড় দেয়া/যুক্তিহীন ঝাড়ী দেয়া/আইনী সমর্থনহীন দাবী করা নিতান্তই অনুচিত, মনে রাখতে হবে কোন না কোন সময় এই লীগাল নোটিশ অপর কোন আইনজীবির হাতে যাবে, অতএব আরেকজন আইনজীবির চোখে নিজেকে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা প্রমান করার আদৌ কোন দরকার আছে কি?

৬) লীগাল নোটিশের মূল সুত্র হচ্ছে = (কি অভিযোগ)+(কি সমাধান কবের মধ্যে চাই)+(চাহিদা মত সমাধান না হলে কি করা হবে)।       

৭) অনেক ক্ষেত্রে লীগাল নোটিশের সময়সীমা থাকে, যেমন চেক ডিজঅনারের মামলার ক্ষেত্রে শেষবার চেক ডিজঅনার হবার ত্রিশ দিনের মধ্যে লীগাল নোটিশ না পাঠালে এর পরে আর কোন লীগাল নোটিশ পাঠানো একান্তই অর্থহীন। 

৮) লীগাল নোটিশে ‘এর বিচার আল্লাহ করবে’, ‘র‌্যাবের কাছে বিচার দেব’, ‘পুলিশকে জানাবো’ এই জাতীয় কথা ভুলেও লিখবেন না, আপনার যে আইনগত কোন মুরোদ নেই তা এই ধরনের কথাতে একেবারে পরিস্কার হয়ে যাবে।

৯) মনে রাখবেন আপনি যাকে লীগাল নোটিশ পাঠাবেন সেও প্রায় সব ক্ষেত্রেই আপনাকেও আরেক লীগাল নোটিশের মাধ্যমে জবাব দেবে, কাজেই আপনাকে ‘পেয়ে বসবে’ এমন কোন কিছু নিজের লীগাল নোটিশে রাখবেন না।     

১০) লীগাল নোটিশ সাবধানে ড্রাফট করুন এবং পাঠানোর আগে অবশ্যই তা মক্কেলকে দেখিয়ে নিন, মক্কেল প্রাথমিক ভাবে আপনাকে ভুল তথ্য দিতে পারে, ড্রাফটিং এর সময় আপনারও ভুল হতে পারে আবার লীগাল নোটিশের ড্রাফট দেখার পর মক্কেলেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কোন তথ্য মনে পড়তে পারে।

১১) জীবন মরন সমস্যা না হলে লীগাল নোটিশ ড্রাফটিং এর ব্যাপারে তারাহুড়া করবেন না, আপনার পাঠানো লীগাল নোটিশ যে মামলার সময় কোর্টে উপস্থাপন করা হবে এবং ব্যাপারটা মামলা পর্যন্ত গড়ালে মামলার আর্জী যে এই লীগাল নোটিশের আদলে ড্রাফট করতে হবে কথাটা লীগাল নোটিশ ড্রাফটিং এর সময়  মাথায় রাখবেন।           

১২) পাঠানোর আগে বার বার লীগাল নোটিশটি পড়ে দেখুন, বানান বা ক্রমিক সংখ্যা ভুল আছে কিনা দেখুন, লেখায় যৌক্তিকতা, ধারাবাহিকতা এবং সাবলীলতা বজায় আছে কিনা দেখুন, পরিশেষে একটি ছোট কিন্তু কার্য্যকর পরামর্শ, দেখা শেষ হলে কয়েক ঘন্টা ড্রাফটটা ফেলে রাখুন, এরপর আবার পড়ুন, অনেক সময় কিছু ভুল কেবল কিছু সময় পার হবার পর আমাদের চোখে ধরা পরে।

১৩) পাঠানোর আগে মান উন্নত করার স্বার্থে যতবার খুশী ভাষা পরিবর্তন করুন, কাগজের বা প্রিন্টিং বিলকে কখনো উন্নত মানের কাজের বিরুদ্ধে দাড়াতে দেবেন না।

১৪) শেষ টিপস, বিষয়টা জটিল হলে লীগাল নোটিশ পাঠানোর আগে আপনার পরিচিত কোন ভাল আইনজীবিকে ড্রাফট দেখিয়ে নেবেন।

ধন্যবাদ।         


লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

গ্রাম আদালতে আপনার আবেদন নাকচ হলে কী করতে হবে?



১. আবেদনপত্র পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যদি নিশ্চিত হন যে, আবেদনপত্রে বর্ণিত অভিযোগটি গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য নয় তা হলে অবিলম্বে লিখিতভাবে অগ্রাহ্যের কারণ উল্লেখ করে আবেদনপত্রটি আবেদনকারীর নিকট ফেরত দেবেন।
২. আবেদন অগ্রাহ্য হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এই আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করতে পারবেন
৩. রিভিশনের আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ তা পাওয়ার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করবেন।

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১৮

রেপ এবং আদালতের কিছু অজানা অধ্যায় (০০০৭)



ওসিঃ      কয়েকদিন ধরে দেখি থানার চারপাশে ঘুরছেন, কি চান?

মহিলাঃ    ধর্ষন মামলা করতে চাই।


ওসিঃ      (মহিলার বয়স এবং ‘রূপ-যৌবন’ বিবেচনা করে) কে হয়েছে, আপনার মেয়ে না ছেলের বউ?

মহিলাঃ    আমি নিজে


ওসিঃ      (ভ্রু কুচকে) সত্যি কথা বলেন, কেন এই কেস করতে চান ?

মহিলাঃ    (কিছুটা ইতস্ততঃ করে) জমি নিয়ে গন্ডগোল, জন্মের মত শিক্ষা দিতে   চাই।



ওসিঃ      (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) ঘরে আর কেউ নেই?

মহিলাঃ    না



ওসিঃ      (দীর্ঘতর শ্বাস ফেলে) না করলে হয় না?

মহিলাঃ    না বাবা। 



ওসিঃ      ঐ কে আছিস, উনার এজাহারটা লিখে নে।





গল্প মনে হচ্ছে? এটা একান্তই সত্য ঘটনা, অনেক দিন আগে পল্লবী থানার এক ওসির কাছ থেকে তার পেশা জীবনের এই কাহিনী শুনেছিলাম।

গত লেখায় আমি রেপ পরবর্তী বিচার ব্যবস্থা নিয়ে লিখেছিলাম, আজ আমি তার আরেকটা দিক আপনাদের বলব।

আপনাদের কি কখনো মনে হয়েছে যে বাংলাদেশে রেপের বিচার খুব ধীরে হয় বা অনেক ক্ষেত্রে মোটেই বিচার হয়না? যদি এমনটি মনে হয়ে থাকে তাহলে ঠিকই মনে হয়েছে। এই অব্যবস্থার জন্য যারা অনেকাংশে দায়ী তাদের উল্লেখ কোথাও পাবেন না, কোন টকমারানী, কোন মিডিয়া, কোন আইনী সহায়তা দানকারী সংস্থা এটা নিয়ে আলোচনা করেনা, কিন্তু বাংলাদেশে যদি কখনো রেপের বিচার দ্রুত এবং সুষ্ঠু ভাবে করতে হয়, এই সমস্যাটার সমাধান করেই করতে হবে, এটাকে এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নেই।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে আমি, বাংলাদেশের একজন সুপ্রীম কোর্ট এনলিস্টেড আইনজীবি, এই মর্মে প্রত্যয়ন করছি যে বাংলাদেশে রেপের বিচার ধীরে এবং অনেক সময় মোটেই না হবার  পেছনে প্রায় ক্ষেত্রে মিথ্যাশ্রয়ী বাদীপক্ষ দায়ী।

ব্যাখ্যা করছি_  আপনারা যারা আইনজীবি না তারা রেপ কেসের কথা শুনলেই কুচকে যান, তখনি ধরে নেন অভিযুক্ত ব্যাক্তিটি নিঃসন্দেহে কাজটা করেছে, আমরা আইনজীবিরা সাথে সাথে তা করিনা, আগে আমরা এজাহারটা পরি, তারপর সিদ্ধান্তে পৌছাই। উদাহরন দেই_  এজাহারে আছে দবির ১৫ বছরের কিশোরী সখিনাকে ধর্ষন করেছে, মিডিয়াতে এটুকুই এসেছে আর সেটা নিয়ে সবাই রীতিমত ঝড় তুলে ফেলছে, কিন্তু মিডিয়াতে যেটা আসেনি সেটা হচ্ছে দবিরের বয়স ৮৫ এবং সখিনার বাপের সাথে দবিরের জমি সঙ্ক্রান্ত মামলা চলছে, যে উদাহরনটা এই মাত্র দিলাম সেটা আমার নিজের এক কেসের সত্যি ঘটনা (নামগুলি শুধু বদলে দেয়া), বার্ধক্যের কারনে এই কেসের অভিযুক্ত দবির ঠিক মত হাটতেই পারতো না, মাঝে মাঝে সন্দেহ হত আমার সামনেই অক্কা পাবে কিনা, মাঠের মধ্যে সখিনাকে ফেলে ‘ইয়ে’ করা তো অনেক পরের ব্যাপার।

জ্বী, যারা এখনো বুঝতে পারেননি তাদের বলছি, বাংলাদেশে সত্যিকার রেপ কেসের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমান ভুয়া রেপ কেস ফাইল হয়, এবং যেহেতু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সব কেস চালানো হয় তাই সত্যিকার কেসের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে এই সব ভুয়া কেসের পিছনেও শ্রম ও সময় দিতে হয়। ফলতঃ  উদ্ভুত মামলা জটের কারনে সত্যিকার রেপ কেসগুলিও পিছিয়ে যায়।

উকিল হিসেবে আমি বলতে পারি বাংলাদেশে যে কয়টা রেপ হয় তার সিংহভাগ কেস কোর্ট অবধি পৌছায় না, লোকলজ্জা ঠেলে, ভয়-ভীতি কাটিয়ে, দিনের পর দিন উকিল আর কোর্টের কাছে দৌরানোর মত দম, ইচ্ছা বা সামর্থ্য খুব কম মেয়েরই থাকে। আবার কেসগুলি পরে ভুয়া রেপ কেস দেখতে দেখতে ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে যাওয়া জাজ সাহেবদের সামনে, ফলে যেটুকু সহানুভূতি বা সময় নিয়ে জাজ সাহেবদের কেসটা বিবেচনা করার কথা ছিল, তারা তা করেন না।

আমি আগের লেখায় ব্যাখ্যা করেছিলাম কেন এই ধরনের কেসে ভাল উকিল পাওয়া যায় না, তাই এখানে সেটা নিয়ে আর লেখলাম না।

তো এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের উপায় কি? আমার মতে উত্তরনের উপায় হচ্ছে যখন পরিস্কার বোঝা যাবে কেসটা মিথ্যা, তখন বাদীকে কঠোর কোন শাস্তি দেয়া, কোন কেস ভুয়া কিনা সেটা বিবেচনা করবেন জাজ সাহেবদের একটি প্যানেল।

যখন মানুষ টের পাবে ভুয়া রেপ কেস করলে ‘খবর আছে’ তখন আস্তে আস্তে ভুয়া কেস করা কমিয়ে দেবে এবং সত্যিকার কেস গুলি তখন সামনে আসবে, যা দ্রুত এবং সঠিক ভাবে সমাধান হবে বলে আমরা যৌক্তিক ভাবে আশা করতে পারি। 

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

গ্রাম আদালতে কীভাবে আবেদন দাখিল করতে হবে?


১. আবেদনকারীকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।
২. আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
৩. আবেদনপত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করতে হবে।
৪. আবেদনপত্র দাখিলের সময় ফৌজদারী মামলার জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানী মামলার জন্য ২০ টাকা ফিস দিতে হবে এবং তার রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।
৫. ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে বিবাদ সংঘটিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করতে হবে।
৬. দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে; তবে স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যেও মামলা দায়ের করা যাবে।

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮

ওঝার হাতে মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?

স্ত্রীর উপর প্রেতের দৃষ্টি পড়িয়াছে এবং ওঝা তাহাকে সারাইয়া তুলিবে মনে করিয়া করিম সাহেব তাহার স্ত্রীকে ঝাড়িবার জন্য ওঝাকে অনুমতি দিল। ওঝা এমন ভাবে মারিল যে স্ত্রী বেচারী মরিয়া গেল। কে দায়ী হবে?

#আইনি_সমস্যা_টর্ট_আইন_০০২৩

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

রেপ ও পরবর্তী বিচার ব্যবস্থা (০০০৬)


ধর্ষন সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন নাগরিক মাত্রেই কমবেশী ধারনা রাখেন কিন্তু ধর্ষনের বিচার চাইতে গেলে বিচার প্রার্থীদের যে কি পরিমান ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেটা এমনকি অনেক উকিলও জানেন না।

আমার এই লেখাটা মূলত বিচার চলাকালীন সময় নিয়ে, বাংলাদেশের আইনে একজন বিচার প্রার্থীকে কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হয় তার সাথে কি হয়েছিল, কি তার অভিযোগ, বিচারক যদি ইচ্ছা করেন তাহলে মামলার সাথে সম্পর্কহীন সকল ব্যাক্তিকে কোর্ট থেকে সরিয়ে দিয়ে বাদীর বক্তব্য শুনতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে মামলা সংক্রান্ত সবাইকে নিয়ে তা নিজের খাস কামরায়ও শুনতে পারেন, তবে মামলা জটের কারনে বিচারকরা সাধারনতঃ এ ধরনের টানা-হ্যাচরা করেন না।

কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে ধর্ষকের (যদি গ্রেফতার হয়ে থাকে) এবং এক গাদা অপরিচিত লোকের উপস্থিতিতে একজন ধর্ষিতার পুরো ঘটনাটির বর্ননা দেবার বিষয়টা যে কতখানি ট্রমাটিক সেটা সেই মেয়েটা ছাড়া আর কেউ অনুভব করেন কিনা তা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ আছে, প্রথমটা যদি দৈহিক ধর্ষন হয় তাহলে কোর্টে সবার সামনে দাঁড়িয়ে বিচারপ্রার্থীর পুরো ঘটনার বর্ননা দেয়ার বিষয়টা নিঃসন্দেহে মানসিক ধর্ষনের পর্যায়ে পরে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে লোক লজ্বার ভয়ে ধর্ষিতারা বিচার চান না, আর কালেভদ্রে কেউ যদি বিচার চেয়েই বসেন, তাহলে উপরে বর্নিত মানসিক ধর্ষনের পর শুরু হয় আসামী পক্ষের উকিল কতৃক ধর্ষিতার বক্তব্যের কাটা-ছেড়া, আসামী পক্ষের উকিলদের প্রধান চেষ্টা থাকে আদৌ এমন কোন ঘটনা ঘটেনি তা প্রমান করা, অপ্রিয় হলেও এটা সত্য যে চাক্ষুষ স্বাক্ষী (থাকাটা প্রায় অসম্ভব) বা করবোরেটিং এভিডেন্স না থাকলে বা আসামী স্বয়ং দোষ স্বীকার না করলে রেপ কেস প্রমান করা অত্যন্ত কঠিন একটা বিষয়।

আর যদি দৈহিক মিলনের ব্যাপারটা প্রমান হয়েই যায় তাহলে আসামী পক্ষের উকিলেরা এটা দেখানোর চেষ্টা করেন যে ব্যাপারটা সম্মতিমূলক ছিল, সব চেয়ে আজব ব্যাপার হচ্ছে ধর্ষনের ক্ষেত্রে মেয়ের চরিত্র কোন ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ না হলেও (সত্যিকার নির্ভেজাল সম্মতি ছিল কি ছিল না সেটাই হচ্ছে ডিসাইডিং ফ্যাক্টর, সত্যি কথা বলতে  পতিতার সাথে জোর পূর্বক মিলিত হলে আইনগত হিসেবে সেটাকেও ধর্ষন হিসেবে গন্য করা যায়) আসামী পক্ষের উকিলরা আপ্রান চেষ্টা করেন মেয়েটিকে চরিত্রহীন এবং উগ্র টাইপ হিসেবে দেখানোর জন্য।

এটাতো গেল কোর্টের ভিতরের অংশ, মামলা চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশে আসামী পক্ষ কতৃক মেয়েকে এবং মেয়ের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয়া আর মিটমাটের জন্য সামাজিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করা মোটামুটি ভাবে ঐতিহ্য হিসেবে গন্য করা যেতে পারে।

এখানে একটা প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশে এত আইন সহায়তা দানকারী এনজিও আছে, তারা কি করে, তারা কি সাহায্য করতে পারেনা ? আমার পেশাগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি এই সব আইন সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলি আইনী পরামর্শ, সালিশ-মীমাংশার জন্য যথেষ্ট ভাল হলেও কোর্টে গেলে ট্রায়াল স্টেজে রুটিন মাফিক কুপোকাত হয়, না তাদের সদিচ্ছার কোন অভাব নেই কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তারা তাদের নিয়োজিত উকিলদের যে পরিমান সম্মানী দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশী টাকা ভাল উকিলেরা তাদের গাড়ী এবং ড্রাইভারের পিছনে ব্যয় করে, দ্বিতীয়তঃ আমরা উকিলেরা যখন সদ্য পাশ করে বের হই তখন আমাদের মন অনেক নরম থাকে এবং আমরা মানুষদের আসলেই সাহায্য করতে চাই, কয়েক বছর প্র্যাক্টিস করার পর যখন আমরা সিনিওর হয়ে যাই, আমাদের মনের সদিচ্ছাগুলি মরে যায় এবং আমাদের মধ্যের সেরারা টাকার স্বাদ পেয়ে যায় তখন এইসব এনজিও গুলি আমাদের নিয়োগ দিতে চায়, ফলাফল? অশ্বডিম্ব।

আরেকটা ব্যাপার না বলে পারছি না, বাংলাদেশে ফৌজদারী অপরাধে বাংলাদেশ সরকার বাদী হিসেবে কাজ করে, অর্থাত সরকার নিয়োজিত উকিলরা বাদীপক্ষকে রি- প্রেজেন্ট করে, যদি এই সব সরকারী উকিলের মান ভাল হয় (রেয়ার কেস) তাহলে বাচোয়া, আর যদি উকিল সাহেবের ‘চা-পানি’ খাবার অভ্যাস থাকে, তাহলে কি হয় বুঝতেই পারছেন, আরেকটা সমস্যা আছে, বাদী যদি নিজে উকিল রাখে তাকে আবার সরকারী উকিলের মর্জি মাফিক চলতে হয়, যে কোন আত্মসম্মান এবং দক্ষতা সম্পন্ন উকিলের জন্য ব্যাপারটা খুবই অবমাননাজনক এবং এই সব কেসে ভাল উকিল না পাবার এটা একটা বড় কারন।

যদি ধর্ষন কেসের বাদীকে আমরা আসলেই সাহায্য করতে চাই, আমাদের উচিত হবে সবার আগে বাদীকে এবং তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া, বাদীকে উকিল নিয়োগ দেবার স্বাধীনতা দেয়া এবং সেই উকিলকে সরকারী উকিলের প্রভাব বলয়ের বাইরে থেকে কাজ করতে দেয়া, বিচার ব্যাবস্থাকে দ্রুত এবং মানবিক করা, বাদীর মান সম্মান রক্ষা করে ট্রায়াল করা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সাক্ষ্য আইনকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা যাতে আসামী পক্ষের উকিলেরা বাদীকে কোর্টে অপ্রাসঙ্গিক এবং অপমানজনক প্রশ্নের মাধ্যমে হয়রানী করতে না পারে।

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

আর্পিত সম্পত্তি কী


১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর 'ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস, ১৯৬৫' জারি করা হয়। এই বিধিমালা অনুসারে ওই ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত যেসব নাগরিক পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়, তাদের পরিত্যাক্ত সম্পত্তি 'শত্রু সম্পত্তি' হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৭৪ খ্রীস্টাব্দে 'শত্রু সম্পত্তির' নাম পরিবর্তন করে 'অর্পিত সম্পত্তি' রাখা হয়। এই সব আর্পিত সম্পত্তি মূল মালিক বা তদীয় বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১' প্রণয়ন করা হয়। তবে তা বাস্তবায়নের জণ্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা জারী না করায় আইন অনুসারে দীর্ঘকাল কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্নিভব হয় নি।

অর্পিত সম্পত্তি ফেরৎ লাভের শর্তাবলী:

  • সরকারী গেজেটে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা প্রকাশের ৩০০ দিনের মধ্যে তা ফেরৎ লাভের জন্য আবেদন করতে হবে। না করলে অর্পিত সম্পত্তি সরকারি দখলে নিয়ে তা দীর্ঘস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।
  • অর্পিত সম্পত্তি ফিরে হলে দাবীদারকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে।
  • বিনিময় মামলার আওতায় যারা ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন, অর্পিত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য তাদেরকে ভারতে প্রদত্ত সম্পত্তির বিবরণী জমা দিতে হবে। 

গ্রাম আদালত কোন মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে পারে না?


১. ধর্ষণ
২. খুন
৩. অপহরণ
৪. ডাকাতি
৫. বহুবিবাহ
৬. তালাক
৭. ভরণপোষণ
৮. অভিভাবকত্ব
৯. দেনমোহর
১০. দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার
১১. যৌতুক
১২. নারী ও শিশু নির্যাতন
১৩. কোনো ঘটনায় রক্তপাত ঘটে থাকলে
১৪. স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত
১৫. ৭৫,০০০ টাকার উপরের যে কোনো মামলা।

গ্রাম আদালত কী কী ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে?



১. চুরি
২. ঝগড়া-বিবাদ
৩. কলহ বা মারামারি
৪. দাঙ্গা
৫. প্রতারণা
৬. ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া
৭. কোনো নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা বা অন্য কোন কাজ করা।
৮. বল প্রয়োগ করে জখম করা
৯. গচ্ছিত কোন মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা
১০. উত্যক্ত করা
১১. পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত
১২. স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত
১৩. অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত
১৪. কোন অস্থাবর সম্পত্তির জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত
১৫. গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত
১৬. কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত ইত্যাদি।

কেন আমরা গ্রাম আদালতে যাবো?



১. গ্রাম আদালতে অল্প খরচে, স্বল্প সময়ে এবং অতি সহজে বিরোধ ও বিবাধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

২. নিজ ইউনিয়নে প্রতিকার পাওয়া যায়।

৩. নিজের প্রতিনিধি নেজেই মনোনয়ন দেয়া যায়।

৪. প্রতিনিধি মনোনয়নে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী সমান সুযোগ পায়।

৫. পক্ষগণ নিজের কথা নিজেই বলতে পারে, আইনজীবীর দরকার হয় না।

৬. গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

৭. গ্রাম আদালতে সমঝোতার ভিত্তি বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, এক বিরোধ থেকে অন্য বিরোধ সৃষ্টি হয় না।

৮. বিরোধীয় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়।

গ্রাম আদালত কী?


১. গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ছোট-খাটো ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

২. গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তি করতে পারে।

৩. যে ইউনিয়নে বিরোধ সৃষ্টি হবে সে ইউনিয়নেই গ্রাম আদালত গঠিত হবে।

৪. গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই।

এক নজরে গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬


১. গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধ গ্রাম আদালত নিষ্পত্তি করতে পারে।

২. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উভয়পক্ষের ২ জন করে মনোনীত প্রতিনিধি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

৩. গ্রাম আদলতে ফৌজদারী মামলার ফি ১০ টাকা ও দেওয়ানী মামলার ফি ২০ টাকা

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮

গ্রাম আদলত


















গ্রাম আদালত


শ্রমিকদের কর্মরত সময়কাল নির্ণয়ের নিয়ম।

কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে পূর্ববর্তী বার পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্ততঃ দুইশত চল্লিশ দিন বা একশত বিশ দিন কাজ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি যথাক্রমে "এক বৎসর" বা "ছয় মাস" প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
#বাংলাদেশ_শ্রম_আইন, ২০০৬ এর ১৪। (১) ধারা
#আইনি_পরামর্শ_শ্রম_আইন_০০২২

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১৮

টিএসসি ১৪২২ এবং কিছু কথা (০০০৫)


আজ আমি এমন কিছু কথা শোনাবো যা আপনাদের পছন্দ হবে না কিন্তু যার সত্যতা আপনারা ভবিষ্যতে চোখের সামনে দেখতে পাবেন_ 

"টিএসসিতে নীপিড়নকারী যুবকরা যদি ধরাও পরে শেষ পর্যন্ত তাদের কিছুই হবে না"

না এখানে রাজনীতির কিছু নেই, তারা আইনের ফাক গলেই বের হয়ে যাবে, আপনারা জানেন কিনা জানিনা বাংলাদেশে এখনো সেই ১৮৭২ সালে ব্রিটিশদের করে যাওয়া সাক্ষ্য আইনই চলে, ব্রিটিশ শাসন অবসানের এত বছর পরেও, এত জ্ঞানী-গুনী বুদ্ধিজীবি, টকমারানী (?!?!) থাকার পরেও কারো মুরোদ হয়নি এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার। আমি যে কয়টা ফুটেজ দেখেছি তা দেখে আইনজীবি হিসেবে আমার মনে হয়েছে শুধু এ সবের উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের শাস্তি দেয়া যাবেনা। 

না আমি এই সব অভিযুক্তের পক্ষ নিচ্ছি না বা এদের সমর্থনও করছি না কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতবানী করছি মাত্র। বাংলাদেশের প্রচলিত সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর নিজের, অর্থাত  টিএসসিতে নীপিড়িত নারীদের বিচার তাদের নিজেদেরই চাইতে হবে, পুলিশ ইচ্ছা করলে নিজেরা এজাহার দায়ের করে মামলা শুরু করতে পারে তবে ভিকটিমের সাক্ষ্য প্রমান বাদে সেই মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি হবার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে আমার জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব হবার সম্ভাবনা প্রায় সমান সমান।

ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম বিচারের জন্য কোন মেয়ে হয়তো কোর্টে যাবে, গেলে কি হবে আপনারা হয়তো জানেন না কিন্তু একজন আইনজীবি হিসেবে আমি জানি, বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এই সব কেসে মেয়েরা আসামী পক্ষের উকিলদের হাতে যে পরিমান মানসিক নির্যাতন এবং নোংরা প্রশ্নের শিকার হয় তার চেয়ে প্রকাশ্যে গনধর্ষন সম্ভবতঃ কম কষ্টকর।   

তো এখন কি হবে ? ছেলেগুলি হয়তো ধরা পরবে, কিছুদিন তারপর জেলেও থাকতে পারে কিন্তু তার পর একদিন ঠিকই জামিন পেয়ে যাবে, কোন মেয়ে যদি সাহস করে সামনে এগিয়ে মামলা করে তখন সেই মেয়েকে হুমকি ধমকি দেবে, মেয়েটা সেই সব হুমকি-ধমকিতে বা কোর্টে আসা যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বা উকিলদের নোংরা প্রশ্ন থেকে বাচতে আদালতে যাওয়া বন্ধ করে দিবে, এই হবে আরকি।

সত্যি কথা বলতে যে পর্যন্ত সাক্ষ্য আইন যুগোপযোগী  করা না হবে, এমনটিই চলতে থাকবে, তো এখন কথা হচ্ছে সরকার তা করছেনা কেন? সরকার যে কারনে করছেনা বা করতে পারছেনা সেই কারনটা একই সাথে দুঃখজনক এবং হাস্যকর, আইন যুগোপযোগী করার মত মেধাবী লোক সরকারের নেই, সরকার যদি আই আইন যুগোপযোগী করার জন্য কোন প্রকল্পও হাতেও নেয় তাও ব্যার্থ হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে কারন তখন মেধার চেয়ে দলীয় পরিচয় বড় হয়ে উঠবে, তা সে যে সরকারই হোক না কেন। 

সরকার যদি আসলেই সাক্ষ্য আইনকে যুগোপযোগী করতে চান তাহলে সরকারকে রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্দ্ধে উঠে দুই প্রজন্মের উকিলদের সাহায্য নিতে হবে, প্রথমতঃ নিতে হবে সেরা সিনিওর ট্রায়াল আইনজীবিদের (যেমন মোশাররফ হোসেন কাজল ভাই) যারা ট্রায়াল আসলেই ভাল বুঝেন এবং দ্বিতীয়তঃ আমার প্রজন্মের আইনজীবিদের, আইসিটি সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে, কেবল মাত্র তাহলেই সরকার সাক্ষ্য আইনকে যুগোপযোগী করে তুলতে পারবেন।

লেখক:
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

বে-আইনী ধর্মঘটের কারণে মালিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শ্রমিকগণ কোন মজুরী পাবেন কি?

#বাংলাদেশ_শ্রম_আইন, ২০০৬ এর ১৩ ধারা অনুসারে,
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা বিভাগে বে-আইনী ধর্মঘটের কারণে মালিক উক্ত শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন, এবং এরূপ বন্ধের ক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকগণ কোন মজুরী পাইবেন না।
(২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শাখা বা বিভাগ বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন শাখা বা বিভাগ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে উহা চালু রাখা সম্ভব নহে, তাহা হইলে উক্ত শাখা বা বিভাগও বন্ধ করিয়া দেওয়া যাইবে, কিন্তু সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে তিন দিন পর্যন্ত লে-অফ এর ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমপরিমাণ মজুরী প্রদান করিতে হইবে, তবে এই মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাহারা আর কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
(৩) উক্তরূপ বন্ধের বিষয়টি মালিক যথাশীঘ্র সম্ভব সংশ্লিষ্ট শাখা বা বিভাগের নোটিশ বোর্ডে বা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকাশ্যস্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া সংশিস্নষ্ট সকলকে অবহিত করিবেন এবং কাজ পুনরায় শুরু হইবার বিষয়ও উক্তরূপে বিজ্ঞাপিত করিবেন।
#উক্ত_আইনের ১৬ ধারার (৬) উপধারা অনুসারে লে-অফ এর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর এক-চতুর্থাংশ এবং যদি আবাসিক ভাতা থাকে, তাহার সম্পূর্ণের সমান৷

#আইনি_পরামর্শ_শ্রম_আইন_০০২১

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ও কিছু প্রাসংগিক কথা (০০০৪)


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সেকশন-৯ (১) এর অধীনে হ্যাপি রুবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ দাখিল করেছে এবং ধর্ষনের উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছে 'বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক' স্থাপন করাকে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আইনে ধর্ষনের উপাদান হিসেবে কিন্তু 'প্রলোভন' এর কোনো উল্লেখ নেই, বরং আছে 'প্রতারনা'র। জনসাধারনের কাছে দুটি একই কথা মনে হলেও একজন  অভিজ্ঞ আইনজীবি কোর্টে এই দুই বিশেষনের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখাতে পারবেন।

উদাহরন দেইঃ

দবির একটা ভূয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে (আকাশ-বাতাস স্বাক্ষী রেখে বিয়ে, ইত্যাদি) পল্লীবালা সখিনাকে ঘরে তুলে আনে এবং মিলিত হয়, এটা প্রতারনা।

প্রবাসী দবির এর এর সাথে পল্লীবালা সখিনার ফোনে বিয়ে হয়েছে, কেউ কাউকে দেখেনি, দবির এর বন্ধু সবির ব্যাপারটা জানে, সে দেশে এসে দবির পরিচয়ে সখিনার সাথে মিলিত হয়, এটাও প্রতারনা।

উপরের দুটি ঘটনাই উপরোক্ত আইনে ধর্ষন হিসেবে গন্য হবে, কিন্তু যদি_

অবস্থাপন্ন লম্পট যুবক দবির দশ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে উঠতি নায়িকা লিওনের সাথে রাত কাটায়, পুরো টাকা না দিয়ে কিছু টাকা বাকি রাখে। এটা কিন্তু প্রলোভনের মধ্যে পরবে কারন প্রলোভনের মুল উপাদান 'কোনো কিছুর বিনিময়ে কোনো কিছু' (দেহের বিনিময়ে টাকা, সহজ ভাবে বলতে গেলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচি) এখানে আছে।

বিচার শেষে রুবেলের শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন কারন হ্যপি নিজেই স্বীকার করছে ব্যাপারটা প্রলোভনমূলক, প্রতারনামূলক নয়।

এখানে একটা কথা উঠতে পারে, হ্যাপির কি তাহলে কোনো আইনগত প্রতিকার নেই ? প্রতিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু নারী শিশু আইনে নেই।

একটা  চমৎকার আইনও আমাদের অসাধুতার কারনে কিভাবে কালক্রমে কার্যকারিতা হারায় তার প্রকৃষ্ঠতম উদাহরন হচ্ছে আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি। এটা তৈরি করা হয়েছিল মুলতঃ অসহায় নারী ও শিশুদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু কালক্রমে বাঙ্গালি মেয়েদের অসাধুতার কারনে এটি মুলতঃ পরিনত হয়েছে পুরুষদের নির্যাতনের হাতিয়ারে। আমি আমার পেশা জীবনে কমপক্ষে ২০০ (দুই শত) নারী ও শিশু কেসে কাজ করেছি এবং বলতে দুঃখ লাগে এতোগুলি কেসের মাঝে মাত্র একটা কেস ছিল সত্য, বাকিগুলি ছিল হয় পুরোপুরী মিথ্যা বা অতিরঞ্জন।

এমনও দেখেছি, স্বামী হয়ত স্ত্রীকে থাপ্পর মেরেছে (থাপ্পর মারা সমর্থন করছি না) কিন্তু স্ত্রী কেস করেছে 'যৌতুক চেয়ে মারপিট' এর। এইসব কাণ্ড মেয়েরা কেন করে তা আজো আমার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার না, হতে পারে প্রতিশোধ, হতে পারে নির্বুদ্ধিতা। কিন্তু আখেরে তারা সর্বনাশ করে নিজের এবং আইন ব্যাবস্থার। মেয়েরা মিথ্যা কেস করার সময় ভুলে যায় মামলার সময় অন্য পক্ষেও উকিল থাকবে এবং সে ঘাস খাবে না। বিচারকরা যখন দেখেন এই ধরনের কেস সাধারনতঃ ভুয়া, তারা একসময় সত্যি কেসও অবিশ্বাস করা শুরু করেন। কোনো এক গরবীনির অহমিকার দাম শেষ পর্যন্ত হয়ত শোধ হয় তার কোনো দীন বোনের প্রতিশোধহীন কাফনে।


লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রাখার নিয়ম।


#বাংলাদেশ_শ্রম_আইন, ২০০৬ অনুসারে,
১২। (১) অগ্নিকান্ড, আকষ্মিক বিপত্তি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদু্যৎ সরবরাহ বন্ধ, মহামারী, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত অন্য কোন কারণে প্রয়োজন হইলে, কোন মালিক যে কোন সময় তাহার প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা শাখাসমূহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন এবং যে কারণে উক্তরূপ বন্ধের আদেশ দেওয়া হইবে তাহা বিদ্যমান থাকা পর্যনত্দ এই বন্ধের আদেশ বহাল রাখিতে পারিবেন।
(২) যদি উক্তরূপ বন্ধের আদেশ কর্মসময়ের পরে দেওয়া হয়, তাহা হইলে পরবর্তী কর্মসময় শুরু হওয়ার আগে মালিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখার নোটিশ বোর্ডে বা কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নোটিশে বন্ধ পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পূর্বে কোন সময় তাহাদের কর্মস্থলে অবস্থান করিতে হইবে কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৪) যদি উক্তরূপ বন্ধ কর্মসময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়, তাহা হইলে মালিক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় নোটিশ মারফত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে যথাশীঘ্র সম্ভব তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং এই নোটিশে পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং শ্রমিকগণ কর্মস্থলে অবস্থান করিবেন কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৫) উক্তরূপ কাজ বন্ধের পর যে সমস্ত শ্রমিককে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হইবে, তাহাদের এই অবস্থানের সময় এক ঘণ্টার কম হইলে তাহারা কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন, এবং এই অবস্থানের সময় ইহার অধিক হইলে তাহারা অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ সময়ের জন্য মজুরী পাইবেন।
(৬) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের চেয়ে বেশী না হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কোন শ্রমিক, উপ-ধারা (৫) এর ক্ষেত্র ব্যতীত, কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
(৭) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের অধিক হয় তাহা হইলে, সাময়িক বা বদলী শ্রমিক ব্যতীত, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শ্রমিককে এক দিনের অতিরিক্ত সকল বন্ধ কর্ম দিবসের জন্য মজুরী প্রদান করা হইবে।
(৮) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ তিন কর্ম দিবসের অধিক হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে ধারা ১৬ এর বিধান অনুযায়ী লে-অফ করা হইবে।
(৯) উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত লে-অফ কাজ বন্ধ হওয়ার প্রথম দিন হইতেই বলবৎ হইবে, এবং প্রথম তিন দিনের জন্য প্রদত্ত কোন মজুরী সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রদেয় লে-অফকালীন ক্ষতিপূরণের সহিত সমন্বিত করা হইবে।
(১০) কাজ বন্ধের কারণে যদি কোন ঠিকা-হারের শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহা হইলে উপ-ধারা (৯) এর প্রয়োজনে তাহার পূর্ববর্তী এক মাসে গড় দৈনিক আয়কে দৈনিক মজুরী বলিয়া গণ্য করা হইবে।

রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮

কিভাবে একজন শ্রমিক চাকুরী হইতে ছুটি নিতে পারবে?


#বাংলাদেশ_শ্রম_আইন, ২০০৬ অনুসারে, ছুটির পদ্ধতি:-
১০। (১) কোন শ্রমিক ছুটি নিতে ইচ্ছা করিলে তাহার মালিকের নিকট লিখিতভাবে দরখাস্ত করিতে হইবে এবং ইহাতে তাহার ছুটিতে অবস্থানকালীন ঠিকানা উল্লেখ থাকিবে।
(২) মালিক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা অনুরূপ দরখাস্ত প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে অথবা ছুটি শুরুর হওয়ার দুই দিন পূর্বে, যাহা আগে সংঘটিত হয়, তাহার আদেশ প্রদান করিবেনঃ 
তবে শর্ত থাকে যে, জরুরী কারণবশতঃ যদি প্রার্থীত ছুটি দরখাস্তের তারিখে অথবা উহার তিন দিনের মধ্যে শুরু করিতে হয়, তাহা হইলে অনুরূপ আদেশ দরখাস্ত প্রাপ্তির দিনেই প্রদান করিতে হইবে।
(৩) যদি প্রার্থীত ছুটি মঞ্জুর করা হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে একটি ছুটির পাস দেওয়া হইবে।
(৪) যদি প্রার্থীত ছুটি নামঞ্জুর বা স্থগিত করা হয়, তাহা হইলে নামঞ্জুর বা স্থগিতাদেশের কারণসহ ইহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রার্থিত ছুটি আরম্ভ হওয়ার তারিখের পূর্বে অবহিত করিতে হইবে এবং এতদ্উদ্দেশ্যে রক্ষিত রেজিস্টারে ইহা লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(৫) যদি কোন শ্রমিক ছুটিতে যাওয়ার পর ছুটির মেয়াদ বর্ধিত করিতে চাহেন, তাহা হইলে তাহাকে, ছুটি পাওনা থাকিলে, ছুটি শেষ হওয়ার ১[ যুক্তি সংগত সময় পূর্বে রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে লিখিতভাবে] মালিকের নিকট দরখাসত্দ করিতে হইবে এবং মালিককে ছুটি বর্ধিতকরণের আবেদন মঞ্জুর বা না মঞ্জুর করিয়া শ্রমিকের ছুটির ঠিকানায় লিখিতভাবে জানাইতে হইবে।
#বাংলাদেশ_শ্রম_বিধি ২০১৫ অনুসারে,
২৪। ছুটির রেজিস্টার।- (১) ধারা ১০ মোতাবেক ছুটির রেজিস্টার ফরম-৯ অনুযায়ী রক্ষিত হইবে এবং উহাতে ধারা ১১৫, ১১৬ ও ১১৭-তে বর্ণিত ছুটির হিসাব লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(২) কোন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ
করিলে উহা ছুটির রেজিস্টার বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হইলে ইহার মুদ্রিত কপি
সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের ব্যক্তিগত নথিতে সন্নিবেশিত করিতে হইবে।

আমাদের আইন ব্যবস্থা: ৩য় পর্ব (০০০৩)


থানায় গেলে কেস নেয় না এই মর্মে বাংলাদেশ পুলিশ এর একটা কঠিন বদনাম আছে যা অনেকাংশে সত্য কিন্তু ব্যপারটা পুলিশদের নজর দিয়ে দেখলে অন্যরকম মনে হবে।

আইন পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে বাংলাদেশের মানুষদের কিছু প্রবণতা আগে থেকেই জানা ছিল, কয়েকদিন আগে আবার তার প্রমান পেলাম। একটা জিডি করতে পল্লবী থানায় গিয়েছিলাম, আমি সেখানে বসে জিডিটা লেখার সময় আরো কিছু লোক থানায় এজাহার দেবার জন্য আসলেন, তাদের বক্তব্য শুনে পরিষ্কার বুঝতে পারলাম প্রত্যেকটা কেস ভুয়া, তারা থানায় মামলা করতে এসেছেন এসেছেন কেবল মাত্র মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে।  আমি বলছিনা অসৎ পুলিশ নেই কিন্তু আমাদের আম জনতাও যে ক্ষেত্র বিশেষে কতখানি অসৎ এবং প্রতিহিংসা পরায়ন সেই খবর কি আমরা রাখি ??

(আইনজীবী হিসাবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সমূহ।)
১২-১১.২০১৪

লেখক:
Kazi Wasimul Haque
  • Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

আমাদের আইন ব্যবস্থা: ২য় পর্ব (০০০২)



অনেক সময় খবরে দেখবেন অনেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী বিনা শাস্তিতে বের হয়ে এসেছে, এটা দেখে আপনি খুব সম্ভবত উকিল-পুলিশ-বিচারক সবাইকে এক নিশ্বাসে কয়েকটা গালি দেবেন এবং তারপর ভুলে যাবেন।  

মিডিয়াতে যদিও প্রায়ই বলা হয় 'আইনের ফাক গলে .......ইত্যাদি ইত্যাদি', আসলে ফাকটা আইনের না বরং আইনজীবিদের। 

আপনাদের ধারণা থাকতে পারে যে আইনজীবী মাত্রেই জেরায় খুব পটু হয়, ব্যপারটা আদতে তা নয়, শুনলে আপনাদের বিশ্বাস হবে না জানি না কিন্তু ঢাকা বারের ১০ সহস্রাধিক আইনজীবীর মধ্যে ১০ জন আইনজীবিও হাই প্রোফাইল কেসে জেরা করার দক্ষতা রাখেন না।  আমি কথাটা জেনে শুনেই বলছি কারণ কোনো এক সময় আমি এই 'টপ টেন' এর প্রত্যেক আইনজীবীকে কে চিনতাম এবং তারাও আমাকে ভালোভাবেই চিনতেন।  

সচরাচর কোনো অপরাধের ভুক্তভোগীরা আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে থাকে, তারা প্রথম সারির আইনজীবিদের নিয়োগ করতে পারে না, প্রথম সারিদের নিয়োগ করে আসামীরা, ফলাফল খেলনা ট্যান্ক নিয়ে আসল ট্যান্ক এর সাথে যুধ্হ করলে যা হয় তাই ! আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমরা আসামী পক্ষের উকিলেরা যে পরিমান টাকা এবং সুবিধার মধ্যে গড়াগড়ি খেতাম, বাদী পক্ষের উকিলেরা সেটা কল্পনাও করতে পারতো না।  

বাদী পক্ষের আরেকটা বড় সমস্যা হয়, যে সমস্যাটিকে বাংলাদেশের আইন বাব্যস্থার জন্মগত দোষ বলা ছাড়া আর কিছু বলার নেই, বাদী পক্ষের সকল কেসের নিয়ন্ত্রণ থাকে সরকার নিয়োজিত আইনজীবিদের হাতে (পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর), বাদী পক্ষ যত ভালো উকিলই নিয়োজিত করুক না কেন তাকে সরকারী উকিলের কথা মতই কাজ করতে হয়।  এই পিপিদের সাধারণত নিয়োগ দেয়া হয় দলীয় অনুগাত্যর ভিত্তিতে ফলে এদের পারফরমেন্স সম্পর্কে আর কিছু বলা বাহুল্য মাত্র। 

তবে কি সব পিপি অযোগ্য ? মোটেই না, আমি পেশাগত জীবনে অসাধারণ কিছু পিপির দেখাও পেয়েছি, কিন্তু আসামীরা যদি সরকারী দলীয় হয় (যা আকসার হবার সম্ভাবনা) তাহলে দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন পিপি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কতখানি কার্যক্রমের ক্ষমতা রাখেন বা সাহস করবেন ?

এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হচ্ছে বাদিপক্ষকে বিদেশী আইন ব্যবস্থার মত নিজ খরচে এবং নিজ পছন্দ অনুযায়ী উকিল নিয়োগ করার ক্ষমতা দেয়া হোক যে সরকারী পিপিদের নজরদারী ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবে, এই সুবিধাটা দিতে সরকারের কোনো বাড়তি খরচ হবে না কিন্তু আইনের শাসন অনেকাংশে নিশ্চিত হবে।  

(আইনজীবী হিসাবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সমূহ।)

১০-১১-২০১৪

লেখক:
Kazi Wasimul Haque
  • Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

আমাদের আইন ব্যবস্থা: ১ম পর্ব (০০০১)


জাতি হিসাবে যদি সৎ হতাম তাহলে প্রচলিত আইন ব্যবস্থা থেকেই আমরা অনেক উপকৃত হতাম।  নারী ও শিশুদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নাম একটি চম९কার আইন প্রবর্তন করেছিলেন কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরা এই আইনের এত অপব্যবহার করেছে যে কোর্ট এখন সত্যিকার কেস ও বিশ্বাস করে উঠতে পারেন না।

কেবলমাত্র কিছু বানোআট উপাদানের কারণে কত সত্যিকার নারী শিশু কেস যে হেরে যেতে দেখেছি তার কোনো লেখা-জোখা নেই, কেস দেয়ার সময় লোকেরা সম্ভবত মনে করে কিছু বাড়িয়ে বলি তাহলে জিনিষটা পোক্ত হবে, কিন্তু তাদের মাথায় এটা কখনো আসেনা যে এই মিথ্যা উপাদান গুলি দেখিয়েই আসামী পক্ষের উকিল কেস জিতে যাবে।

একজন আইনজীবী হিসাবে খোলামনে স্বীকার করছি, যদি কোনো বাদী কেবলমাত্র সত্য ঘটনা বর্ণনা করে মামলা করেন তাহলে সেই আসামীকে বাচানো প্রায় অসম্ভব একটা কাজ।

(আইনজীবী হিসাবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সমূহ। )
৯-১১-২০১৪

লেখক:
Kazi Wasimul Haque
  • Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮

কখন একজন শ্রমিককে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ করা যায়?

কখন একজন শ্রমিককে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ করা যায়?

আসুন আগে জেনে নেই ডিসচার্জ কি।
"বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২(১৭) ধারা অনুসারে "ডিসচার্জ" অর্থ শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে অথবা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান।"
#বাংলাদেশ_শ্রম_আইন, ২০০৬ অনুসারে,
২২। (১) কোন শ্রমিককে, কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়িত, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ করা যাইবে।
(২) ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিক অন্যূন এক বৎসর অবিচ্ছিন্ন চাকুরী সম্পূর্ণ করিলে তাহাকে মালিক তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন।
#বাংলাদেশ_শ্রম_বিধি ২০১৫ অনুসারে
২৮। (১) ধারা ২২ এ বর্ণিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক শ্রমিকের অক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-১১ অনুযায়ী হইতে হইবে এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককেও সরবরাহ করিতে হইবে।
(২) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রদান করা প্রত্যয়নে শ্রমিক অথবা মালিক সন্তুষ্ট না হইলে তিনি উহা প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা করিবার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজের অন্যূন সহকারী অধ্যাপকের পদমর্যাদাসম্পন্ন কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট পেশ করিতে পারিবেন এবং উক্ত পুনঃপরীক্ষার খরচ আবেদনকারীকে বহন করিতে হইবে।

স্বামী দাম্পত্য মিলনের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিলে কি হইবে?

স্বামী দাম্পত্য মিলনের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিলে দেনমোহরের পরিমাণ অর্ধেক হইবে।

স্বামীর জীবদ্দশায় কোন মুসলমান স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করলে কি হবে?

স্বামীর জীবদ্দশায় কোন মুসলমান স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করলে, দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উক্ত বিবাহজাত সন্তানও অবৈধ।

আপনি যে জমি ক্রয় করতে যাচ্ছেন, জেনে নেন উক্ত জমি ক্রয়ে, কারা আগে অগ্রাধিকার পাবে।

#জমি_ক্রয়_করার_পূর্বে "অগ্রক্রয় বা Pre emption" সম্পর্কে জানা উচিত।
আপনি যে জমি ক্রয় করতে যাচ্ছেন, জেনে নেন উক্ত জমি ক্রয়ে, কারা আগে অগ্রাধিকার পাবে। তা না হলে আপনার ক্রয় করা জমি আদালতের মাধ্যমে "অগ্রক্রয় বা Pre emption" মামলা করে যারা অগ্রক্রয় করার অধিকারী তারা আপনার ক্রয় মূল্যে আপনার নিকট থেকে পুনরায় ক্রয় করে নিতে পারবে।
মুসলিম আইন অনুসারে তিন শ্রেণির ব্যক্তিগণই শুধু অগ্রক্রয়ের দাবী করতে পারে।
১. সম্পত্তির সহ-অংশীদার
২. সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির উপর যাতায়াত বা পথের অধিকার, পানি নিষ্কাশনের অধিকার, জল প্রবাহ পাবার অধিকার সম্পন্ন ব্যক্তিগণ
৩. সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির সন্নিকটস্থ সম্পত্তির মালিকগণ
#জমি_ক্রয়ের পূর্বে উক্ত তিন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের কাছে জমি ক্রয়ের ব্যাপারটি জানানো উচিত। যদি উনারা জমিটি না ক্রয় করে তবে আপনি জমিটি ঝামেলা মুক্তভাবে ক্রয় করতে পারবেন।
#বিক্রয়ের বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার চার মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় করার অধিকারী ব্যক্তিগণ অগ্রক্রয়ের প্রার্থনা করতে পারে। তাই আমার শিক্ষকের পরামর্শ হচ্ছে সম্পত্তি ক্রয়ের টাকা সম্পন্ন পরিশোধের পূর্বে উক্ত সম্পত্তির সামনে চার মাস ক্রয় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির দেওয়া।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানার জন্য নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮

আইনি সমস্যা: ইকুইটি ও ট্রাস্ট আইন - ০০১৪


করিম তার বসতবাড়ি সংলগ্ন একটি পতিত ডোবা কোনও ব্যক্তির নিকট হতে সরল বিশ্বাসে কিনে তাতে মাটি ভরাট করত ঐ জমির যথেষ্ট উন্নতি সাধন করে। ইতিমধ্যে উক্ত জমির প্রকৃত মালিক আদালতের মাধ্যমে জমির দখল পায়। এখন করিম কি উন্নায়ন বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা দাবী করে মামলা করতে পারবে?

রবিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৮

মুসলিম পুরুষরা কি খ্রিস্টান ও ইহুদী নারীকে বিয়ে করতে পারবেন?


#প্রথম_কথা "আল্লাহ তা‘আলা তাতে ইরশাদ করেন,
﴿ ٱلۡيَوۡمَ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُۖ وَطَعَامُ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ حِلّٞ لَّكُمۡ وَطَعَامُكُمۡ حِلّٞ لَّهُمۡۖ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ إِذَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحۡصِنِينَ غَيۡرَ مُسَٰفِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِيٓ أَخۡدَانٖۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٥ ﴾ [المائ‍دة: ٥]
‘আজ তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো সব ভালো বস্তু এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তাদের খাবার তোমাদের জন্য বৈধ এবং তোমার খাবার তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের সাথে তোমাদের বিবাহ বৈধ। যখন তোমরা তাদেরকে মোহর দেবে, বিবাহকারী হিসেবে, প্রকাশ্য ব্যভিচারকারী বা গোপনপত্নী গ্রহণকারী হিসেবে নয়’। {সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৫} এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সতী-সাধ্বী খ্রিস্টান ও ইহুদীদের বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন।"
#২য়_কথা "মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ প্রায় সব ধর্মেই একই রীতি যে, বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজ ধর্মের অনুসারে কাউকে বিয়ে করতে হবে। তবে, ইসলাম ধর্মে পুরুষদের জন্য এর পরিধিটা কিছুটা বৃদ্ধি করা আছে। মুসলিম পুরুষরা চাইলে, অমুসলিম কিন্তু কিতাবিয়া(খ্রিষ্টান এবং ইহুদিরা কিতাবিয়া) নারীকে বিয়ে করতে পারবে, তবে মুসলিম নারী কোন অমুসলিম কিতাবিয়া পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না। এছাড়া, বাকী সকল ধর্মের ক্ষেত্রে তারা কেবল নিজ নিজ ধর্মের লোককেই বিয়ে করতে পারবে।"
#৩য়_কথা "তাছাড়া যে কোন ধর্মের লোকই “বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২” অনুযায়ী তার ভিন্ন যে কোন ধর্মের লোককে বিশেষ বিবাহ করতে পারবে। যে ব্যক্তি মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন এর কোন একটির অনুসারী কিন্তু সে নিজ ধর্ম ভিন্ন অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে চায়, সে বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ এর অধীনে বিবাহ করতে পারবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে সকল বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে সেসব বিয়ের বৈধতাও নিশ্চিত করা যায়। মূলকথা হচ্ছে, এই আইনের অধীন বিবাহ করতে গেলে ধর্মহীন হয়ে, তারপর বিবাহ অনুষ্ঠান করতে হবে। যার কারনে, যার কোন ধর্ম নাই, সেও এই আইনের অধীন বিবাহ করতে পারবে"
#শেষ_কথা "বাংলাদেশে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রভৃতি আইনের সমন্বিত নিয়ম-ধারার অধীনে মুসলমান সমাজে আইনী বিয়ে ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। অবশ্য এই যাবতীয় আইনই ইসলামী শরীআতের অন্তর্বর্তি এমনটা বলা যায় না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহ পরিপন্থি অনেক বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।"