নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সেকশন-৯ (১) এর অধীনে হ্যাপি রুবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ দাখিল করেছে এবং ধর্ষনের উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছে 'বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক' স্থাপন করাকে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আইনে ধর্ষনের উপাদান হিসেবে কিন্তু 'প্রলোভন' এর কোনো উল্লেখ নেই, বরং আছে 'প্রতারনা'র। জনসাধারনের কাছে দুটি একই কথা মনে হলেও একজন অভিজ্ঞ আইনজীবি কোর্টে এই দুই বিশেষনের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখাতে পারবেন।
উদাহরন দেইঃ
দবির একটা ভূয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে (আকাশ-বাতাস স্বাক্ষী রেখে বিয়ে, ইত্যাদি) পল্লীবালা সখিনাকে ঘরে তুলে আনে এবং মিলিত হয়, এটা প্রতারনা।
প্রবাসী দবির এর এর সাথে পল্লীবালা সখিনার ফোনে বিয়ে হয়েছে, কেউ কাউকে দেখেনি, দবির এর বন্ধু সবির ব্যাপারটা জানে, সে দেশে এসে দবির পরিচয়ে সখিনার সাথে মিলিত হয়, এটাও প্রতারনা।
উপরের দুটি ঘটনাই উপরোক্ত আইনে ধর্ষন হিসেবে গন্য হবে, কিন্তু যদি_
অবস্থাপন্ন লম্পট যুবক দবির দশ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে উঠতি নায়িকা লিওনের সাথে রাত কাটায়, পুরো টাকা না দিয়ে কিছু টাকা বাকি রাখে। এটা কিন্তু প্রলোভনের মধ্যে পরবে কারন প্রলোভনের মুল উপাদান 'কোনো কিছুর বিনিময়ে কোনো কিছু' (দেহের বিনিময়ে টাকা, সহজ ভাবে বলতে গেলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচি) এখানে আছে।
বিচার শেষে রুবেলের শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন কারন হ্যপি নিজেই স্বীকার করছে ব্যাপারটা প্রলোভনমূলক, প্রতারনামূলক নয়।
এখানে একটা কথা উঠতে পারে, হ্যাপির কি তাহলে কোনো আইনগত প্রতিকার নেই ? প্রতিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু নারী শিশু আইনে নেই।
একটা চমৎকার আইনও আমাদের অসাধুতার কারনে কিভাবে কালক্রমে কার্যকারিতা হারায় তার প্রকৃষ্ঠতম উদাহরন হচ্ছে আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি। এটা তৈরি করা হয়েছিল মুলতঃ অসহায় নারী ও শিশুদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু কালক্রমে বাঙ্গালি মেয়েদের অসাধুতার কারনে এটি মুলতঃ পরিনত হয়েছে পুরুষদের নির্যাতনের হাতিয়ারে। আমি আমার পেশা জীবনে কমপক্ষে ২০০ (দুই শত) নারী ও শিশু কেসে কাজ করেছি এবং বলতে দুঃখ লাগে এতোগুলি কেসের মাঝে মাত্র একটা কেস ছিল সত্য, বাকিগুলি ছিল হয় পুরোপুরী মিথ্যা বা অতিরঞ্জন।
এমনও দেখেছি, স্বামী হয়ত স্ত্রীকে থাপ্পর মেরেছে (থাপ্পর মারা সমর্থন করছি না) কিন্তু স্ত্রী কেস করেছে 'যৌতুক চেয়ে মারপিট' এর। এইসব কাণ্ড মেয়েরা কেন করে তা আজো আমার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার না, হতে পারে প্রতিশোধ, হতে পারে নির্বুদ্ধিতা। কিন্তু আখেরে তারা সর্বনাশ করে নিজের এবং আইন ব্যাবস্থার। মেয়েরা মিথ্যা কেস করার সময় ভুলে যায় মামলার সময় অন্য পক্ষেও উকিল থাকবে এবং সে ঘাস খাবে না। বিচারকরা যখন দেখেন এই ধরনের কেস সাধারনতঃ ভুয়া, তারা একসময় সত্যি কেসও অবিশ্বাস করা শুরু করেন। কোনো এক গরবীনির অহমিকার দাম শেষ পর্যন্ত হয়ত শোধ হয় তার কোনো দীন বোনের প্রতিশোধহীন কাফনে।
লেখক:
Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন