মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১৮

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর হিন্দু বিবাহিতা স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে কি হবে?


ভারতে কোন হিন্দু বিবাহিত মহিলা মুসলমান হলেই তার স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। সুতরাং ঐ মহিলা যদি তার হিন্দু স্বামীর জীবদ্দশায় কোন মুসলমান পুরুষকে বিয়ে করে তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হইবে।
কিন্তু বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর হিন্দু বিবাহিতা স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে তিনটি মাসিক পূর্ণ হইলেই আদালতের কোন ডিক্রী কিংবা নির্দেশ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে তাহার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।

সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮

আইনি সমস্যা: আইন বিজ্ঞান - ০০১১

ডাক্তার গজনবীর শৈল্য চিকিৎসার সুনাম আছে। তাঁর একটি অস্ত্রোপচারে দেখা গেল যে, অবহেলার কারণে রোগীর পাকস্থলীতে একটি সূক্ষ্ম যন্ত্র থেকে যায়, যার ফলে রোগীকে কয়েকদিন পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করতে হয়। রোগী কি ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে ?

আইনি সমস্যা: আইন বিজ্ঞান - ০০১০


হোটেল সোনার গাঁ-এর মেঝেতে একজন খরিদ্দার ১০০ ডলারের দশটি নোট পড়ে থাকতে দেখে তা নিজ ব্যবহারের জন্য উঠিয়ে নেয়। হোটেলের ম্যানেজার উক্ত ব্যাপারটি জানার পর তার কাছ থেকে উক্ত নোটগুলো দাবী করে। খরিদ্দার উক্ত নোট গুলো ফেরত দিতে না চাইলে কি ম্যানেজার মামলা করতে পারবে?

আইনি সমস্যা: শ্রম আইন - ০০০৯


আইনি সমস্যা: টর্ট আইন - ০০০৮


একজন ঘোড়ার গাড়ি চালকের অনুপস্থিতিতে ঘোড়াটি গাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে পাগলের মত ছুটাছুটি আরম্ব করে দেয়। চালক ঘোড়াটিকে ধরার জন্য অপরের সাহায্য লাভের আশায় চীৎকার করতে থাকে। এই চীৎকারে সাড়া দিয়ে একজন সাহসী ব্যক্তি ঘোড়াটিকে ধরতে এসে আহত হয় এবং ক্ষতিপূরণের মামলা করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সাহসী ব্যক্তিটি ক্ষতিপূরণ পাবে কি? আপনার কি মনে হয়?

আইনি জিজ্ঞাসা: সাংবিধানিক আইন - ০০০৭


আইনি জিজ্ঞাসা: মুসলিম আইন - ০০০৫

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও জায়েদ নামে এক সাহাবিকে দত্তক নিয়েছিলেন। তাঁর পিতার নাম ছিল হারেসা। তাঁকে সবাই জায়েদ ইবনে মোহাম্মাদ—অর্থাৎ মোহাম্মাদের পুত্র বলে ডাকত। কোরআনে বিষয়টি নিষেধ করে দেওয়া হয়। পরে সবাই তাঁকে জায়েদ ইবনে হারেসা বলেই ডাকা আরম্ভ করে।

কোরআনে কা
রিমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ তোমাদের পোষ্যপুত্রদের তোমাদের পুত্র করেননি, এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ সঠিক কথা বলেন এবং সরল পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সংগত বিধান। যদি তোমরা তাদের পিতৃপরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে।’ (সুরা আহজাব : ৪-৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজের পিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, তার জন্য জান্নাত হারাম।’ (বুখারি : ৪৩২৬)

এ জন্যই যুগশ্রেষ্ঠ ফকিহ মুফতি শফি (রহ.) বলেন, ‘লালন-পালনকারীকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মা-বাবা ডাকা বৈধ হলেও অনুত্তম ও অনুচিত। কেননা এতে জাহেলিয়াতের কুসংস্কারের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে যায়। ইসলাম এ ধরনের সাদৃশ্য পছন্দ করে না।’ (আহকামুল কোরআন : ৩/২৯২)

আইনি সমস্যা: টর্ট আইন - ০০০৪


আমার পরিচিত একজন কাছের বন্ধু ব্যাংকে চাকুরী লাভের আশায়, একজন দালালকে ৫,০০,০০০ টাকার দেওয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছে। শর্ত হচ্ছে ২,০০,০০০ টাকা অগ্রিম এবং ৩,০০,০০০ টাকা চাকুরী হওয়ার পর দিতে হবে। যদি তিন মাসের মধ্যে চাকুরী না হয়, তবে অগ্রিম ২,০০,০০০ টাকা ফেরত দিয়ে দিবে বলে উভয়ে পক্ষ রাজি হয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ৪ জন স্বাক্ষীসহ চুক্তি নামা দলিল লিপিবদ্ধ করেছে । কিন্তু দু:খের বিষয় হচ্ছে যে ২ বছর হয়ে গিয়েছে তবুও দালাল চাকরী দিতে পারেনি এবং ২,০০,০০০ টাকা ফেরতও দিচ্ছে না। এখন চাকুরী প্রত্যাশী বন্ধু কি আদালতে দালালে বিরুদ্ধে টাকা ফেরতের জন্য মামলা করতে পারবে? আপনার কি মনে হয়?
#আরও_একটু_চিন্তা_করেন, যদি চাকরী পাওয়ার পর আমার বন্ধু বকেয়া ৩,০০,০০০ টাকা না দিতো (যদিও দলিলে লিখিতো আছে), তবে দালাল কি আমার বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারতো? আপনার কি মনে হয়?

আইনি সমস্যা: টর্ট আইন - ০০০৩


হাজেরা বেগমের স্বামী বাহিরে থাকেন। হাজেরা বেগমের প্রতিবেশী নিলা খাতুন একদিন মজা করার উদ্দেশ্যে হাজেরা বেগমকে জানালেন যে তার (হাজেরা বেগমের) স্বামী অন্য একজন মহিলাকে অবৈধ ভাবে বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে হাজেরা বেগম মারাত্মক স্নায়বিক আঘাত পান এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খবরটি মিথ্যা জেনে হাজেরা বেগম দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন; যদিও তার চিকিৎসা বাবদ ২,০০,০০০ টাকা খরচ হয় । এখন হাজেরা বেগম কি নিলা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে? যদি মামলা করতে পরেন, তবে নিলা খাতুনের কি ধরণের শাস্তি হওয়া উচিত বলে আপনার মনে হয়?

রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮

মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টনের সময় কে কতটুকু অংশ পাবে (১ম পর্ব)


(মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টনের সময় কে কতটুকু অংশ পাবে তা অনেকেই জানেন না। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক মৃত ব্যক্তির সম্পদ কে কতটুকু অংশ পাবে।)
#মৃত_ব্যক্তি পুরুষ বা মহিলা উভয় হতে পারে। উভয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য।
#নিয়ম_১ = প্রথমে মনে করতে হবে "মৃত ব্যক্তির" সকল সম্পদের মালিক "পুত্র"
#নিয়ম_২ = যদি কন্যা থাকে, তবে পুত্র যা পাবে কন্যা তার অর্ধেক পাবে।
#নিয়ম_৩ = "মৃত ব্যক্তি" বিবাহিত মহিলা হলে তার স্বামী পাবে ১/৪ অংশ বা "মৃত ব্যক্তি" বিবাহিত পুরুষ হলে তার স্ত্রী পাবে ১/৮ অংশ, 
#নিয়ম_৪ = "মৃত ব্যক্তির" পিতা জীবিত থাকলে পাবে ১/৬ অংশ, "মৃত ব্যক্তির" মাতা জীবিত থাকলে পাবে ১/৬ অংশ। 
#নিয়ম_৫ = মৃত ব্যক্তির স্বামী/স্ত্রী, পিতা ও মাতাকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ পুত্র ও কন্যা ২:১ অনুপাতে ভাগ করে নিতে পারবে।
#নিয়ম_৬ = পিতা না থাকলে পিতার পিতা পাবেন ১/৬ অংশ (পিতার পিতা না থাকলে তার পিতা এভাবে উপরের দিকে যিনি জীবিত তিনি পাবেন ১/৬ অংশ)। একই ভাবে মাতা না থাকলে মাতার মাতা পাবেন ১/৬ অংশ (মাতার মাতা না থাকলে তার মাতা এভাবে উপরের দিকে যিনি জীবিত তিনি পাবেন ১/৬ অংশ)

(আপনি উত্তরাধিকার সূত্রে কতটুকু সম্পদ পাবেন জানতে হলে নিচে কমেন্ট করুণ)

#আইনি_পরামর্শ_উত্তরাধিকার_আইন_০০০৬
#১ম_পর্ব

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮

আইনি সমস্যা: টর্ট আইন - ০০০২

আইনি_সমস্যা_টর্ট_আইন_০০০২

রহিম সাহেব একটি কাবাব রেস্টুরেন্টের মালিক। তার রেস্টুরেন্ট খুবই ভাল চলছিল। কাস্টোমারের ভীরে তার রেস্টুরেন্টে বসার জায়গা দেওয়া যেত না। কিন্তু তার ব্যবসার সাফল্য দেখে তার পাশে এলাকার ধনী একজন ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ব্যবসার ক্ষতি করার জন্য বড় পরিসরে, আধুনিক ডিজাইনে ও খাবারের দাম কমিয়ে আরও একটি কাবাব রেস্টুরেন্ট দেয়। ফলে রহিম সাহেবের ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশের দোকানে কাবাবের দাম কম থাকায় এবং আধুনিক পরিবেশ থাকায় রহিম সাহেবের দোকান এখন প্রায় ফাকা থাকে। রহিম সাহেব কি উক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে? আপনার মতামত কি?

একজন মুসলমান পুরুষ বা নারী মারা গেলে তার সম্পদ কি ভাবে ব্যবহার করা যাবে?

একজন মুসলমান পুরুষ বা নারী মারা গেলে তার সম্পদ কি ভাবে ব্যবহার করা যাবে?

জেনে রাখুন, একজন মুসলমান পুরুষ বা নারী মারা গেলে তার সম্পদ কি ভাবে ব্যবহার করা যাবে।
১. মৃত ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ উভয়ের) রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রথমে তাহার দাফন ও মৃত্যুকালীন ব্যয়িত যাবতীয় অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
২. সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা-পত্র ও উত্তরাধিকারের প্রমাণপত্র সংগ্রহে ব্যয়িত অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
৩. কোন শ্রমিক, শিল্পী বা কর্মচারীর বেতন বা পারিশ্রমিক বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। তবে তারা (শ্রমিক, শিল্পী বা কর্মচারীরা) সর্বোচ্চ তিন মাসের বেতন বা পারিশ্রমিক দাবী করতে পারবে।
৪. মৃত ব্যক্তির যদি কোন ঋণ থাকলে তা অগ্রাধিকার অনুসারে পরিশোধ করতে হবে।
৫. মৃত ব্যক্তির দেনমোহরের টাকা বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে।
৬. যদি মৃত ব্যক্তি কোন উইল করে যান তবে সকল দেনা পরিশোধের পর তার উইল কার্যকর হবে। উইলের পরিমাণ অবশিষ্ট মোট সম্পদের ১/৩ (তিন ভাগের এক) ভাগের বেশি কার্যকর হবে না।
৭. অবশিষ্ট সম্পদ তাহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টন করা হবে।
(তথ্য সূত্র: ১৯২৫ সালের উত্তরাধিকার আইনের ৩২০,৩২১,৩২২,৩২৩,৩২৫ ধারা অবলম্বনে রচিত)


#আইনি_পরামর্শ_মুসলিম_আইন_০০০১