#প্রথম_কথা "আল্লাহ তা‘আলা তাতে ইরশাদ করেন,
﴿ ٱلۡيَوۡمَ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُۖ وَطَعَامُ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ حِلّٞ لَّكُمۡ وَطَعَامُكُمۡ حِلّٞ لَّهُمۡۖ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ إِذَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحۡصِنِينَ غَيۡرَ مُسَٰفِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِيٓ أَخۡدَانٖۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٥ ﴾ [المائدة: ٥]
‘আজ তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো সব ভালো বস্তু এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, তাদের খাবার তোমাদের জন্য বৈধ এবং তোমার খাবার তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের সাথে তোমাদের বিবাহ বৈধ। যখন তোমরা তাদেরকে মোহর দেবে, বিবাহকারী হিসেবে, প্রকাশ্য ব্যভিচারকারী বা গোপনপত্নী গ্রহণকারী হিসেবে নয়’। {সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৫} এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সতী-সাধ্বী খ্রিস্টান ও ইহুদীদের বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন।"
#২য়_কথা "মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ প্রায় সব ধর্মেই একই রীতি যে, বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজ ধর্মের অনুসারে কাউকে বিয়ে করতে হবে। তবে, ইসলাম ধর্মে পুরুষদের জন্য এর পরিধিটা কিছুটা বৃদ্ধি করা আছে। মুসলিম পুরুষরা চাইলে, অমুসলিম কিন্তু কিতাবিয়া(খ্রিষ্টান এবং ইহুদিরা কিতাবিয়া) নারীকে বিয়ে করতে পারবে, তবে মুসলিম নারী কোন অমুসলিম কিতাবিয়া পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না। এছাড়া, বাকী সকল ধর্মের ক্ষেত্রে তারা কেবল নিজ নিজ ধর্মের লোককেই বিয়ে করতে পারবে।"
#৩য়_কথা "তাছাড়া যে কোন ধর্মের লোকই “বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২” অনুযায়ী তার ভিন্ন যে কোন ধর্মের লোককে বিশেষ বিবাহ করতে পারবে। যে ব্যক্তি মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন এর কোন একটির অনুসারী কিন্তু সে নিজ ধর্ম ভিন্ন অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে চায়, সে বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ এর অধীনে বিবাহ করতে পারবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে সকল বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে সেসব বিয়ের বৈধতাও নিশ্চিত করা যায়। মূলকথা হচ্ছে, এই আইনের অধীন বিবাহ করতে গেলে ধর্মহীন হয়ে, তারপর বিবাহ অনুষ্ঠান করতে হবে। যার কারনে, যার কোন ধর্ম নাই, সেও এই আইনের অধীন বিবাহ করতে পারবে"
#শেষ_কথা "বাংলাদেশে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রভৃতি আইনের সমন্বিত নিয়ম-ধারার অধীনে মুসলমান সমাজে আইনী বিয়ে ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। অবশ্য এই যাবতীয় আইনই ইসলামী শরীআতের অন্তর্বর্তি এমনটা বলা যায় না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহ পরিপন্থি অনেক বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।"

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন