রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৮

কোর্টের মামলা (আইন জ্ঞান: ০০০৫)



কারো বিরুদ্ধে কোর্টে অভিযোগ করা মানেই সেটা আইনগত ভাবে প্রমাণ হয়ে যাওয়া না। বাংলাদেশের সাক্ষ্য আইন মতে কোন অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব কেবলমাত্র অভিযোগকারীর, ব্যাপারটা শুনতে যত সহজ মনে হয় বাস্তবে তা নয়। আদালত বিচার করে সাক্ষ্য প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে, কি হওয়া উচিত, দেশ কি বলছে, সমাজ কি বলছে, টিভিতে টকমারানীরা কি বলছে, তাতে বাংলাদেশের কোর্টের কিছুই যায় আসে না। যদি আসলেই অন্যায়-অত্যাচার হয়ে থাকে কেবল তাহলেই কোর্টে অভিযোগ করুন, ডালে লবণ কম হওয়ায় যদি আপনার স্বামী আপনাকে থাপ্পড় মেরে বসেন সেটা নিয়ে কোর্টে যৌতুক মামলা দায়ের করতে যাবেন না (থাপ্পড় মারার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়), আর যদি যান তাহলে খাজনার চেয়ে বাজনা অনেক অনেক বেশী হয়ে যাবে। জেনে রাখা ভাল, কেস ‘পোক্ত’ করার জন্য আপনি যদি সত্যির সাথে মিথ্যা মেশান, ভাল সম্ভাবনা আছে আপনি কেস হেরে যাবেন। বাস্তব জীবনে উকিলেরা বাংলা ছবির উকিলদের মত আবেগী হয়না, কসাই যতখানি ‘মমতার’ সাথে গরু কাটে আপনার বিপক্ষ দলের উকিলও যে একই রকম ‘মমতার’ সাথে আপনার অভিযোগ কাটাকুটি করবেন, এই ব্যাপারটা মাথায় রাখলে আপনিই উপকৃত হবেন।


লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

পিতা-মাতার সম্পত্তি (আইন জ্ঞান: ০০০৪)


মুখে যতই বলা হোক না কেন, যতদিন বাবা-মা বেচে আছেন তাদের সম্পত্তি কেবল তাদেরই, সন্তানদের না, তাদের মৃত্যুর পর সন্তানরা ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তি পাবার আশা করতে পারেন কিন্তু পিতা-মাতা জীবিত থাকাকালীন সময়ে সন্তানরা তাদের কাছ থেকে সম্পত্তি দাবী করতে পারে না, আইনে এ ধরনের দাবীর কোন অধিকার বা ভিত্তি নেই, সন্তানের আর্থিক অবস্থা যত খারাপই হোক না কেন, পিতা- মাতার জীবিতাবস্থায় সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করা পিতা-মাতার দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা। আরো জেনে রাখা ভাল পিতা-মাতা তাদের সম্পত্তি কি করবেন বা কাকে দিয়ে যাবেন সেটা নিয়েও সন্তানদের কথা বলার কোন আইনগত অধিকার নেই।

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

মায়ের সম্পত্তি (আইন জ্ঞান: ০০০৩)


মুসলিম মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি ছেলেদের চেয়ে বেশী পায়না। মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি বেশী পায় এই আজগুবী ধারনাটার আইনগত ভিত্তিটা কেউ যদি যদি আমাকে জানাতে পারেন তাহলে তার প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১৮

দেনমোহর (আইন জ্ঞান: ০০০২)


কাবিন এবং স্ত্রী ‘সংসর্গ’ করার পর দেনমোহর এর পুরো টাকাই স্ত্রীর প্রাপ্য। সত্যিকার ইসলামী হিসাব মতে স্ত্রীকে স্পর্শ করার আগেই দেনমোহর এর পুরো টাকা চুকিয়ে দেবার নিয়ম। জেনে রাখা ভাল স্ত্রী নিজে থেকে দাবী ছেড়ে না দিলে কোন অবস্থাতেই দেনমোহর এর টাকা মাফ হয়না। স্ত্রীর নিজে থেকে তালাক দেয়া, স্ত্রীর পরকীয়া, স্বামীকে যত্ন না করা, বাচ্চাদের খেয়াল না করা, কোন কিছুই দেনমোহর পরিশোধের দায়িত্ব থেকে স্বামীদের মুক্তি দেয়না। স্ত্রী যে কোন সময় পাওনা দেনমোহর দাবী করতে পারেন এবং তিনি তা দাবী করলে স্বামী তা পরিশোধে বাধ্য থাকবেন। তবে জেনে রাখা ভাল, তালাক হয়ে গেলে একটি নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে দেনমোহর এর টাকা চাইতে হয়, অন্যথায় দাবী তামাদি (এক্স-পায়ার) হয়ে যাবে।

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

ত্যাজ্যপুত্র (আইন জ্ঞান: ০০০১)


ইসলামে বা বাংলাদেশের আইনে মুসলিমদের জন্য  ‘ত্যাজ্যপুত্র’ বলে কোন কিছু নেই, ‘তোকে ত্যাজ্যপুত্র করলাম’ এ ধরনের ডায়লগের মূল্য কেবল বাংলা সিনেমায় আছে, বাস্তবে কোন সন্তানকে সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে চাইলে অভিভাবককে মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই হয় তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে ফেলতে হবে অথবা অন্য সন্তানদের দান করে যেতে হবে, আর এই দানটা হতে হবে অভিভাবকের জীবিতাবস্থায়। কোন অভিভাবক যদি জীবনকালে তার সব সম্পত্তি এই ভাবে বিক্রি বা দান না করেন তাহলে তার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ইসলামী ফরায়েজ অনুযায়ীই পাবে। সেই সাথে আরও জেনে রাখা ভাল, সমস্ত ওয়ারিশের সম্মতি ব্যতীত কোন মুসলিমের উইল/অসিয়ত তার সমস্ত সম্পত্তির কেবল এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কার্যকর।

লেখক:

Kazi Wasimul Haque
Lawyer at Supreme Court of Bangladesh

গ্রাম আদালত কীভাবে গঠিত হয়?



  • আবেদনপত্র গৃহীত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে মোট ৫জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হবে।
  • ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আবেদনকারী ও প্রতিবাদী উভয়পক্ষ কর্তৃক মনোনীত ২ জন করে প্রতিনিধি (১ জন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং ১ জন স্থানীয় যে কোন ব্যক্তি) মোট ৫ জনকে নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
  • ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানই গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হবেন। তবে গ্রাম আদালত রায় প্রদান করার পূর্বে যে কোন সময়ে চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দরখাস্ত করবেন। ইউএনও গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করতে পারবেন।